২৪ আগস্ট, ২০১৯ || ৮ ভাদ্র ১৪২৬

শিরোনাম
  বিএনপি নাকি জাতিসংঘে যাবে : কাদের        ঢাকায় নেমেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিলেন জয়শঙ্কর     
৭৪

উৎসাহ-উদ্দীপনায় পহেলা বৈশাখ উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৯  

ঐতিহ্যবাহী নানা অনুষ্ঠান আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রোববার দেশব্যাপী পালিত হয়েছে বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের বৈশাখের আগমনী রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ দিয়ে শুরু হয় রাজধানীর বৈশাখী উৎসব।

সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তিপূর্ণ নতুন বাংলা বছর ১৪২৬ প্রত্যাশায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা ঐতিহ্যবাহী উৎসব আর আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি নতুন বছরে দেশবাসীর আরও সুন্দর জীবন কামনা করেন।

বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন দেশে বা বিদেশে সব বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে নতুন বছরে নতুন সূর্যের মতো সবার জীবন আরও সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।

বাংলাদেশ সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গনে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি অনুষ্ঠানে বাংলায় বক্তব্য দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

তিনি বাংলায় বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আমার মন থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনার পান্তা ভাত খাইয়েছেন?’

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে বর্ষবরণের সব ধরনের অনুষ্ঠান বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

ছয় শতাধিক বছর আগে বাংলা বছর চালুর পর থেকেই পহেলা বৈশাখ পালন বাঙালির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। মুঘল সম্রাট আকবর তৎকালীন সুবে বাংলা থেকে জমির খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা সন চালু করেন।

পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং দেশবাসীসহ সারাবিশ্বের বাংলাভাষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বছরের এ দিনে দেশের ব্যবসায়ীরা নতুন হালখাতা খুলেছেন এবং গ্রাহক ও অতিথিদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করেছেন।

দেশের সর্ববৃহৎ এ সাংস্কৃতিক উৎসবের দিনে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ লাল-সাদা পোশাক পরে রাস্তায় নেমে আসেন। উৎসবের আয়োজন হিসেবে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা বের করেন মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বাঙালির সমৃদ্ধ সংস্কৃতি অনুসারে দেশবাসী এ দিনে বাড়ি, রেস্টুরেন্ট বা মেলায় ইলিশ, কাঁচা মরিচ ও পেয়াজ দিয়ে পান্তাভাত খেয়েছেন।

এদিকে, নির্বিঘ্নে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অনুষ্ঠানস্থলে কেউ মুখোশ পরতে এবং ভুভুজেলা বাজাতে পারেননি। মঙ্গল শোভাযাত্রা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল এবং ভবনের ছাদ থেকে নজরদারি চালানো হয়।

আরও পড়ুন
রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত