২৪ মে, ২০১৯ || ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

শিরোনাম
  প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে মোদির পদত্যাগ        গুজরাটে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৮ শিক্ষার্থী        পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে        ‘হিন্দু-প্রথম’ প্ল্যাটফর্মে নরেন্দ্র মোদির নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ     
২০৩

একাই ১২টি বাংকার ধ্বংস করেন

ডেইলি বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০১৯  

মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদ

মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদ

ভারতীয় মিত্র বাহিনী যা পারেনি, তাই করে দেখিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদ ও তার গেরিলা বাহিনী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধ্বংস করেছেন পাক বাহিনীর ১২টি বাংকার। সে অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন অর্ধশত গেরিলা যোদ্ধা। সেদিন পাক বাহিনী-মিত্র বাহিনীর সৈন্যদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল সড়ক, বান্ধুয়া খাল।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের রোমহর্ষক সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, `আমাদের কমান্ডার জাফর ইমামের পরিকল্পনাতেই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। ধরা পড়লে সেদিন একজনও বেঁচে ফিরতাম না।'

মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদ বলেন, ‘চট্রগ্রামের ব্যবসায়ী সফিকুর রহমান আমাদের যুদ্ধে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমিসহ গ্রামের অসংখ্য তরুণ যুদ্ধে যাই। তখন ব্যবসায়ী সফিকুর রহমানই আমাদের পরিবারের দেখভাল করেছেন। তিনি মনে প্রাণে খাটি দেশপ্রেমিক ছিলেন।’

নাজির আহমেদ বলেন, `আমরা ৩১ জন ওম্পিনগর ক্যাম্পে এক মাস গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে মেলাঘর দুই নম্বর সেক্টরের হেড কোয়ার্টারে যাই। সেখান থেকেই ক্যাপ্টেন হারুনের নেতৃত্বে একিনপুর প্রথম গেরিলা অপারেশন চালাই। অপারেশন শেষে আমরা দুইজন আর্টিলারি ও মেশিনগান চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে আগরতলা যাই। সেখানে গান্ধীজী বিএসএফ হেডকোয়ার্টারে ১০৫ দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে অক্টোবরে ফেনীর মন্সির হাটে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেই। মুন্সির হাটের বান্ধুয়ায় আমাদের সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ ও স্মরণীয় সম্মুখ যুদ্ধ হয়। পাক বাহিনীর ১২টি বাংকার বারবার চেষ্টা করেও ধ্বংস করতে পারেনি ভারতের মিত্র বাহিনী। আমরা পানির নিচ দিয়ে গেরিলা অপারেশন চালিয়ে বাংকারগুলো ধ্বংস করে হানাদার বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করি। সেদিন পাক বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর অসংখ্য সৈন্যের রক্তে সড়ক রঞ্জিত হয়েছিল। আমাদের কমান্ডার জাফর ইমামের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে সেই মৃতের মিছিলে যুক্ত হতো আমাদের মরদেহ।’

এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আরেকটি যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে নাজির আহমেদ বলেন, নভেম্বর মাসের শেষ দিকে চট্রগ্রামের মীরসরাইয়ে হানাদার বাহিনী আমাদের উপর আক্রমণ করে। তবে আমাদের পুরো কোম্পানি পাল্টা আক্রমণ করলে তারা পালাতে বাধ্য হয়। পরে আমরা চট্টগ্রাম সেনানিবারকে শত্রুমুক্ত করতে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নেই।’

যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে তা আরু আগেই পূরণ হতো। আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা দেখতে পেতাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের উন্নয়ন থেমে যায়। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আশাকরি অচিরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে। উন্নত বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’

মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদের পরিচিতি

ডা. নাজির আহমেদের জন্ম ১৯৫১ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের লুদিয়ারা গ্রামে। তিনি ১৯৭০ সালে বাতিসা হাই স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করেন। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

আরও পড়ুন
মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত