২৩ অক্টোবর, ২০২০ || ৭ কার্তিক ১৪২৭

শিরোনাম
  বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘টেকসই ভবিষ্যৎ’ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী        অবশেষে হাসপাতাল ছাড়লেন ইউএনও ওয়াহিদা        অবশেষে হাসপাতাল ছাড়লেন ইউএনও ওয়াহিদা     
২২৩

এ সময় ডায়রিয়া, হতে পারে করোনার অন্যতম লক্ষণ!

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ মে ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ডায়রিয়া খুব স্বাভাবিক রোগ হলেও করোনাভাইরাসের এই সময়ে তা হতে পারে ভয়ঙ্কর। কেননা বেশকিছু ক্ষেত্রে পেটের সমস্যাও হতে পারে করোনাভাইরাসের একটি উপসর্গ। এক গবেষণায় এমন তথ্য জানিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।

এসিই-২ নামে যে রিসেপটরের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ হয় তার প্রাচুর্য শ্বাসনালী ছাড়াও পাকস্থলী ও অন্ত্রে রয়েছে। এ কারণে ডায়রিয়াও হতে পারে। যদি তা হয় যে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে উহানের ইউনিয়ন হাসপাতাল ও টাঙ্গি মেডিকেল কলেজের বিজ্ঞানীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দিকে অনেকে জ্বর-কাশির পরিবর্তে ডায়রিয়া উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। কিন্তু জ্বর, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, গা-হাত-পা ব্যথা ইত্যাদিকে উপসর্গ ধরে চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় ডায়রিয়ার বিষয়টি শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।

বিজ্ঞানীদের মতে, আসলে ডায়রিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু পরে বোঝা গেছে, পেটের এ ব্যথার কারণেও একজন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হতে পারে।

লেখক ও ইতিহাসবিদ ফার্ন রিডেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন, তা বুঝতে অনেক সময় লাগে চিকিৎসকদের। গবেষক দল রিডেলের রোগকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, প্রথম দিকে তার ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথার মতো উপসর্গ ছিল। মাসখানেক শয্যাশায়ী থাকার পর বোঝা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২৬ দিনের মাথায় সেরে ওঠেন ইতিহাসবিদ ফার্ন রিডেল।

গবেষকরা এই রোগটিকে গ্যাস্ট্রো করোনা হিসেবে অবহিত করেছেন। তাদের দাবি, ফুসফুসে প্রবেশ করা জীবাণু বেরিয়ে গেলেও পেটে ঢুকলে ভাইরাসটি জলদি নির্মুল হয় না। করোনার সংক্রমণ যখন পাকস্থলিতে হয় তখন তাকে বলা হয় গ্যাস্ট্রো করোনা। অনেক সময় এ সংক্রমণ পাকস্থলিতেও হতে পারে। এটা হলে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও বমির ক্লান্তি, গা-হাত-পা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

গ্যাস্ট্রো করোনা হলে রোগীর রোগ নির্ণয় হতে অনেক সময় লেগে যায়। তবে গ্যাস্ট্রো করোনার সুবিধা হলো এর কম সময় সংক্রমণ প্রকোপ থাকা। তবে ভোগান্তির সময়কাল অনেক বেশি থাকে বলে দাবি উহানের ইউনিয়ন হাসপাতাল ও টাঙ্গি মেডিকেল কলেজের বিজ্ঞানীদের।

নিউইয়র্কের লেনক্স হিল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক রবার্ট গ্ল্যাটার বলছেন, ‘অনেকের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যার মাধ্যমে রোগের সূত্রপাত হলেও পরে একে একে অন্য উপসর্গগুলোও দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য এটাই থেকে যায় মূল উপসর্গ হিসেবে।’

২০৬ জন কোভিড-১৯ রোগীর ওপর সমীক্ষা করে নিউইয়র্কের একদল গবেষক। তাদের মধ্যে ৪৮ জনের শুধু ডায়রিয়ার মতো পাকস্থলীর সমস্যায় ভুগছিলেন। তাদের মল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাতে ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে এবং তা সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

৬৯ জনের পেটের সমস্যা দিয়ে শুরু হলেও পরে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের মতো উপসর্গগুলো দেখা দেয়। আর ৮৯ জনের ছিল প্রচলিত উপসর্গ- কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর।