০২ জুন, ২০২০ || ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শিরোনাম
  ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১৮৭৩ জন, মৃত্যু ২০ জনের     
৭২

করোনার মধ্যেই টাকার বিনিময়ে রাতে বাল্যবিয়ে পড়ালেন কাজী!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসে তাণ্ডবে থমথমে সবকিছু। এরই মধ্যে পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের বিয়ে রেজিস্ট্রার কাজী মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময় বাল্য বিবাহ পড়ানো ও কাবিননামা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি টাকার জন্য গভীর রাতেও কাবিন রেজিস্ট্রি করে থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে উপজেলার মজিদবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন খানের বিরুদ্ধে একই গ্রামের আপান গাজীর মেয়ে শারমিন আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এবারে সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ঢাকার বকুলনেছা বিএন হাইস্কুল থেকে। শারমিন তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিল। বিষয়টি শারমিন তার অভিভাবকে জানালে তারা সুমনের বাবা-মাকে অভিহিত করেন এতে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে শারমিনের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেসা করে। 

এ সময় তার মা ঘরে ছিলেন না এ সুযোগে তাকে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি চেষ্টা করে সে এবং শারমিন চিৎকার করলে সে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনা জানাজানি হলে গত বুধবার সকালে মির্জাগঞ্জ থানায় যৌননিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুমনের বিরুদ্ধে মেয়ে শারমিন। 

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ছাত্রনেতা সুমনকে থানা পুলিশ আটক করে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। ওইদিন বিকালে তাকে বিয়ের মুচলেকা দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান খালেক মৃধার কাছে জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে থানা থেকে বের হওয়ার পরই শারমিন বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সুবিদখালী বিয়ে রেজিস্ট্রার মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ কাছে আসলে মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বিয়ে পড়ানো ও কাবিননামা করতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

শারমিন এ বছর ঢাকার বকুল নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে  এসএসসির পরীক্ষা দিয়েছে।

বুধবার রাত দেড়টার সময় ৬ নম্বর মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের বিয়ে রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ শারমিনের বয়স গোপন রেখে উৎকোচের বিনিময়ে গভীররাতে কাবিন রেজিস্ট্রি করেন। 

এ বিষয়ে মজিদ বাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভয়াং শরাফতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান খালেক মৃধা বলেন, ‘নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ গভীর রাতে বাল্যে বিবাহ পড়াচ্ছেন খবর শুনে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে কাবিন রেজিস্ট্রি করেত নিষেধ করার পরও তিনি কাবিননামা করেছেন। এটা তার কাছে নতুন কিছু নয় বলে জানান স্থানীয়রা।

তিনি এভাবেই বয়স গোপন রেখে অর্থের বিনিময় বাল্য বিয়ের কাবিননামা করে যাচ্ছেন অহরহ, এ যেন দেখার কেউ নেই। 

তবে বিয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে গভীর রাতে ছেলে পক্ষ ডেকে এনেছে এবং ছেলে-মেয়ের কাবিন নামা ও বিবাহ সম্পন্ন করেছি।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানি না। তবে এই দুর্যোগের মধ্যেই কিভাবে কাজী বাল্যবিবাহ করালেন তা জেনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন
রাজধানীর বাইরে বিভাগের সর্বাধিক পঠিত