১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ || ২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

শিরোনাম
  দুর্নীতি করে কেউ টাকা বানানো যায়, সম্মান নয় : প্রধানমন্ত্রী        যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান শেখ পরশ     
৮৯

জাবিতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ‘সর্বাত্মক ধর্মঘট’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০১৯  

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে‘সর্বাত্মক’ ধর্মঘট পালন করছেন জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে‘সর্বাত্মক’ ধর্মঘট পালন করছেন জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে পূর্ব ঘোষিত দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার প্রথম দিন পালন করছেন তারা। তাদের প্রথম দিনের এ কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন তাদের এই সর্বাত্মক ধর্মঘট চলবে। তবে পূর্ব নির্ধারিত ফাইনাল পরীক্ষা অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল অবরোধের মাধ্যমে ধর্মঘট শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো যানবাহন বের হতে দেননি তারা। এতে ঢাকা থেকে শিক্ষক- কর্মকর্তাদের অধিকাংশই ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি।

পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। ফলে অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। এতে স্থবির হয়ে পড়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

এদিকে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অভিযোগকারীদের চিহ্নিত করে দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত আগস্টে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর মধ্যেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উপাচার্য ফারজানার কাছে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরে ওই দুই ছাত্রনেতাকে ছাত্রলীগের পদ হারাতে হলেও তারা উল্টো অধ্যাপক ফারজানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ঈদ সালামি হিসেবে উপাচার্যের কাছ থেকে এক কোটি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়। আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন আন্দোলনকরীরা। নির্ধারিত সময়ে পদত্যাগ না করায় উপাচার্যের অপসারণে বুধ ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেন তারা।

আরও পড়ুন
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত