১৩ নভেম্বর, ২০১৯ || ২৯ কার্তিক ১৪২৬

শিরোনাম
  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা        আজ শোকাবহ জেল হত্যা দিবস     
৬০

জাবি উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০১৯  

ছাত্রলীগের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ায় তাকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদারের সঞ্চালনায় আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া ‘লাল কার্ড’ দেখানোর সূচনা করেন। এ সময় উপাচার্যকে উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘বিগত ছয় বছর ধরে আপনি বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়ম করেই যাচ্ছেন এবং ভারপ্রাপ্তদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়কে চালিয়ে ভারাক্রান্ত করে রেখেছেন। আপনি স্বেচ্ছায় চলে যান নাহলে আপনাকে যেতে বাধ্য করা হবে। ’

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা এই সন্ত্রাসীর পৃষ্ঠপোষক ও মামলাবাজ উপাচার্য ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি “লাল কার্ড”। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারনের কর্মসূচি।’

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শাখা ছাত্রলীগের দুজন নেতা উপাচার্যের কাছ টাকা নেওয়ার কথা মিডিয়ার সামনেই স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরেও উপাচার্য নির্লজ্জের মতো গদিতে বসে রয়েছেন।’

এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের অর্থ এখনো ছাড় হয়নি তাই দুর্নীতির অভিযোগ অসত্য। অসত্যের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। তাই উপাচার্যের পদত্যাগ ইস্যু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

উপাচার্য বলেন, ‘আমিও চাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কেবল রাষ্ট্রীয় আদেশে বিচার বিভাগের এক বা একাধিক কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে হতে পারে।’

বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আদেশ ছাড়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত সম্ভব নয়। বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি আন্দোলনকারীদের। কিন্তু তারা তা না করে আমার পদত্যাগ দাবি করেছে। তাই উপাচার্য পদত্যাগ ইস্যু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করি।’

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে গনমাধ্যমে প্রকাশ পায়, উপাচার্যের মধ্যস্থতায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়। এরপর উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্পের এই টাকা থেকে কয়েক শতাংশ চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে শোভন ও রাব্বানী বলেছিলেন, জাবির একটি টেন্ডারের ভাগ হিসেবে শাখা ছাত্রলীগকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই চাঁদাবাজির সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। উপাচার্যের ছেলে মোটা অঙের কমিশন বাণিজ্য করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। সে ঘটনা আড়াল করতেই আমাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

এ ঘটনার মধ্যেই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতার ফোনালাপের অডিও ফাঁস হয়। যেখানে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম বলেছেন, কে কত টাকা পাবে তা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার বাসভবনে বৈঠক করে ঠিক করে দিয়েছেন।

আরেক নেতা সহসভাপতি নিয়ামুল হক তাজও একই দাবি করেছেন। তারা দুজনেই দাবি করেন শাখা সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে তারা নিজেরাও সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং টাকার ভাগও পেয়েছেন। উপাচার্যের ছেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কমিশনের বাণিজ্য করেছে এমনটাও দাবি করেন তারা।

পরে মিডিয়ার সামনেও উপাচার্যের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন শাখা ছাত্রলীগের এই দুই নেতা। এ নিয়ে ত্রিমুখী বক্তব্য দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। নিজেরা টাকার ভাগ পেয়েছেন এমন কথা দুই নেতা স্বীকার করলেও শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তা অস্বীকার করছেন।

আরও পড়ুন
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত