১৯ জুলাই, ২০১৯ || ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

শিরোনাম
  রিফাত হত্যাকাণ্ড : রিশান ফরাজী ৫ দিনের রিমান্ডে        পানির ডুবে আছে গাইবান্ধা, অনাহারে অর্ধাহারে ৪ লাখ মানুষ        হুমায়ূন আহমেদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ        লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী     
৮৯

‘দ্য ডিরেক্টর’ নিয়ে পপি-কামুর পাল্টাপাল্টি মামলার হুমকি

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০১৯  

একটি চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে কবি ও নির্মাতা কামরুজ্জামান কামুকে। তার পরিচালিত স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিরেক্টর’ মুক্তি পেয়েছে গত ৫ জুন ঈদ-উল-ফিতরের দিনে। তবে প্রেক্ষাগৃহে নয়, সিনেমাটি কামু মুক্তি দিয়েছেন সান বিডিটিউব নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে।

কিন্তু কেন ইউটিউবের শরণাপন্ন হলেন পরিচালক কামরুজ্জামান কামু? এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ২০১৩ সালে ‘দ্য ডিরেক্টর’ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ছাড়পত্রের প্রত্যাশায় সেন্সর বোর্ডের টেবিলে চক্কর খাচ্ছিল সিনেমাটি। ছাড়পত্র পাওয়ার পরিবর্তে সে সময় ছবিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে মুক্তি আটকে দেওয়া হয়। এই সিনেমার মুক্তির জন্য আন্দোলনও কম হয়নি। রাজপথে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন করেছিলেন কামুসহ মুক্ত মনের শিল্পচর্চায় আগ্রহী মানুষরাও।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে সেন্সর পায় ‘দ্য ডিরেক্টর’। যদিও সেখানে থেমে যায়নি সিনেমাটি নিয়ে কামুর দীর্ঘ সংগ্রাম। ছবিটি মুক্তির ছাড়পত্র পেলেও উপযুক্ত পরিবেশক না পেয়ে আবারও ঝুলে পড়ে ‘দ্য ডিরেক্টর’ মুক্তি। ২০১৫ সাল থেকে নানা জায়গায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে ধর্ণা দিয়েছেন কামু। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন, কামুর স্বল্প বাজেটের এই সিনেমাটি মুক্তি দিতে আগ্রহ দেখাননি কেউ-ই।

এত বাধাতেও দমিয়ে রাখা যায়নি ‘দ্য ডিরেক্টর’ পরিচালককে, শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সিনেমাটি ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি দিবেন। দর্শকরা বিনামূল্যে দেখার সুযোগ পাবে তাতে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন পরিচালকের জন্য এত সহজ ছিল না। অর্থের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শ্রম আর মেধাও লগ্নি হিসেবে লাগিয়েছেন এই সিনেমার পেছনে, এত কষ্টের ফসলকে একদম বিনামূল্যে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য যে অসাধারণ সাহস লাগে, কামু সেই সাহসটিই দেখিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন দর্শক তার সিনেমাটি দেখুক, যদি ভালো লাগে তবে অনলাইনের মাধ্যমে যে যেমন পারে তার পরবর্তী সিনেমার জন্য সাহায্য করুক, এখানেও কোনো বাধ্যবাধকতা দিয়ে দেননি তিনি।

যদিও এত ঝক্কিঝামেলার পর সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ায় যদি কেউ ভেবে থাকেন কামু তার সমস্ত বাধা অতিক্রম করে গেছেন, তবে বোধহয় পুরোপুরি ঠিক ভাবা হবে না। সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন ‘দি ডিরেক্টর’-এর নায়িকা পপি। ইউটিউবে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার ঘোষণার পর থেকেই এই ছবিটি নিয়ে অভিযোগ করছেন তিনি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে পপি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘একটা টেলিফিল্ম কীভাবে চলচ্চিত্র হয়? আমি জানতাম কামু ভাই টেলিফিল্ম নির্মাণ করছেন। আর সেই অনুযায়ী আমাকে আমার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। যদি এটা সিনেমাই হয়, তাহলে তো আমার পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা চলচ্চিত্রের। তহলে আমাকে কেন ঠকানো হলো?’

এদিকে সম্প্রতি সিনেমার পরিচালক কামুর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি অবশ্যই আইনি লড়বো। যে কেউ এসে আমাকে মিস ইউজ করে আমার দর্শকদের ঠকাবে, এটা আমি কখনোই মেনে নেবো না।’ এছাড়া পপি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি যদি সিনেমার প্রধান চরিত্রই হতাম তাহলে মাত্র দুই দিন কেন শুটিং করানো হলো আমাকে দিয়ে? আমি জানি না বিশ্বের কোথাও কোনো সিনেমায় একজন মেইন আর্টিস্ট মাত্র দুই দিন শুটিং করে কি না!’

পপির মামলার প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয় ‘দ্য ডিরেক্টর’ সিনেমার আলোচিত পরিচালক কামরুজ্জামান কামুর সঙ্গে। আলাপচারিতায় কামু জানান, পপির মামলার হুমকির বিষয়ে তিনি চিন্তিত না। তিনি এখন তার পরবর্তী কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। সেটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’ পপি মামলা করলে এ বিষয়ে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে কামু বলেন, ‘মামলা করুক আগে। এরপর সেটা মোকাবেলার জন্য যা যা করতে হয় করবো। আর এটা তো মানহানী আসলে, পপি যেটা করতেছেন। সে মামলা-টামলা করলে আমিও মানহানীর মামলা করার কথা ভেবে দেখবো।’

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত