২১ নভেম্বর, ২০১৯ || ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

শিরোনাম
  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা        আজ শোকাবহ জেল হত্যা দিবস     
১৯১

ধীরেন্দ্রনাথকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে নিউইয়র্কে সভা

প্রবাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০১৯  

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথকে বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি করার দাবি জানিয়ে স্মরণ সভা করা হয়েছে নিউইয়র্কে। সম্প্রতি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রবাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত স্মরণসভায় এ দাবি জানানো হয়।

নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের এক রেস্টুরেস্টে স্থানীয় সময় ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্মরণ সভাটি আয়োজন করা হয়েছিল ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পরিষদ ইউএসএ-এর পক্ষ থেকে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাট্যকার ও সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মানবাধিকার কর্মী শিতাংশু গুহ।

স্মরণ সভাটি চলার সময় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’র নাতনি সাংসদ এরোমা দত্ত এবং টেনেসির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দেশ প্রেম নিয়ে বক্তব্য দেন। সভায় ওবায়দুল্লাহ মামুন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

সভায় বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. টমাস দুলু রায়, প্রতীপ দাশগুপ্ত, রবীন্দ্র সরকার, মাথিয়াস বাবুল রোজারিও, বিভাষ মল্লিক, মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য, দীনেশ চন্দ্র মজুমদার, আবেদিন কাদের, প্রভাশ গুপ্ত।

ঢাকা থেকে টেলিফোনে সাংসদ এরোমা দত্ত প্রবাসে তার দাদু শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু দিবস পালনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের যথাযথ মর্যাদা পাওয়া উচিত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ দিকটায় নজর দেবেন।

টেনেসির অধ্যাপক ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক বলেন, ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা আন্দোলনের অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলা ভাষাকে দাফতরিক ও অন্যতম ভাষার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ ভাষণে তিনি ১৯৪৮-এ করাচীতে পার্লামেন্টে তার সাহসী ভূমিকার বর্ণনা দেন।

ওবায়দুল্লাহ মামুন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রবক্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। ধীরেন্দনাথ দত্ত ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে প্রথম বাংলা ভাষার প্রস্তাব রেখেছিলেন, ঠিক চার বছর পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয়।

মামুন, ধীরেন্দনাথ দত্তকে প্রথম রাজনৈতিক শহীদ হিসেবেও বর্ণনা করেন। সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে যে সাহসী প্রস্তাব রেখেছিলেন, একাত্তরে জীবন দিয়ে তার মূল্য পরিষদ করেছেন। তিনি সংসদ ভবনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নামফলক এবং কুমিল্লায় ধীরেন্দনাথ দত্তের স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের মন্তব্য করেন।

আবেদীন কাদির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ‘ধীরেন্দনাথ দত্ত’ চেয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় অন্যান্য বক্তারা স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কীর্তি তুলে ধরার আহ্বান জানান। সবার উপস্থিতিতে নিকট ভবিষ্যতে ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠান করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করেছিলেন ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইলে জন্মগ্রহন করেন। আইনজীবী বাবা জগবন্ধু দত্ত’র হাতেই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আইনি পেশায় হাতেখড়ি। তিনি নবীনগর হাইস্কুল, কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কলকাতার রিপন কলেজে পড়াশোনা করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কুমিল্লার বাঙ্গরা হাইস্কুলের সহকারী হেডমাস্টার ছিলেন। ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা বারে যোগ দেন। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল কঠোর। ধর্মের ভিত্তিকে ভারত বিভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির ছিলেন শহীদ দত্ত। কিন্তু দেশ বিভাগ অনিবার্য হয়ে গেলে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার পাশে অবস্থান নেন। তাই হয়তো পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই নতুন এই দেশটির সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে তাকে নেয়া হয় দেশটি আইনগত খসড়া কাঠামো তৈরির জন্য।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাংলায় কথা বলে, তাই আমার বিবেচনায় বাংলা হওয়া উচিত রাষ্ট্রভাষা।’ তার এই বক্তব্যকে জিন্নাহর ‘উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বলা যায়। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

একুশে পদক পাননি। তাকে ২৯ মার্চ ২৯৭১ সালে পাকিস্তানি দু’জন ক্যাপ্টেন নাসিম মালিক ও আগা বোখারি উঠিয়ে নিয়ে যায়। তাকে বেশ কিছুদিন অত্যাচারের পর ১৪ এপ্রিল পঙ্গু অবস্থায় হত্যা করা হয়।