২১ নভেম্বর, ২০১৯ || ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

শিরোনাম
  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা        আজ শোকাবহ জেল হত্যা দিবস     
১৮০

‘৭ মার্চের কয়েকদিন পরই বেরিয়ে পড়ি, পরিবারে কেউই জানেনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯  

‘সে সময় বয়স ১৫ বছর।  পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনতে ২০-২৫জন যুবক ঢাকায় যাই। এ ভাষণে অনুপ্রাণিত হই সবাই। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার শিহরণ ছিল এই ভাষণে। তখন পরিবারে অভাব অনটন ছিল। কোনোকিছুই দমাতে পারেনি। দেশ কীভাবে মুক্ত করব সেই চিন্তা ছিল মাথায়। ৭ মার্চের কয়েকদিন পরই বেরিয়ে পড়ি। পরিবারে কেউই জানেনি।’

কথাগুলো বিডিপ্রজন্ম৭১-কে বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা গ্রামের একিন আলী ভূইয়ার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আখাউড়ার বড়বাজার এলাকায় বসবাস করছেন। দুই ছেলে, দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার।

মো. ফজলুল হক বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বয়স বাড়ছে, কোনো কাজকর্ম করতে পারছি না। কোনো মতে কাটছে দিন। নিজের জায়গা নেই। তাই অন্যের বাড়ি থাকি।’

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফজলুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৩ মে মুর্শিদাবাদের সুসাইডাল স্কোয়ারে নাম লেখাই। তিনমাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তখনই নিজেকে চৌকুস নৌকমান্ডো হিসেবে প্রস্তুত করি। এর আগে মার্চে ইপিআর ক্যাম্প আক্রমণের সময় ছিলেন এএম মো. ইসহাক বীর প্রতিক, হাবিলদার আব্দুল আজিজ, মুজাহিদ সদস্য সানু মিয়া, ফজলুসহ ৫০ জন সদস্য। অবাঙালি ইপিআর সদস্যরা গণহত্যা শুরু করলে তারা সামান্য কয়েকটি অস্ত্র নিয়ে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইপিআর ক্যাম্প দখলে নিয়ে আসি। এরপর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও বাল্লা যুদ্ধে অংশ নেই। এই দুটি যুদ্ধ ছিল ভয়াবহ। বেশ কয়েকদিন চলে। এরপর মেজর শফিউল্লাহ তাকে নৌ কমান্ডো প্রশিক্ষণের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলার পলাশী আম্রকাননে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তাকে ল্যাফ: মার্টিস,কেশিং, ভূট্রোজি প্রশিক্ষণ নেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সেখান থেকে এসে সাবমেরিনার আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়নগঞ্জ বন্দর অপারেশেনে অংশ নেই। সেখানে ৩৫জন পাক সেনা নিহত ও আমাদের ২১ জন শহীদ হয়। এরপর জামালপুর ফেরিঘাটের হোসেনপুরে একটি বড় ব্রিজ ধ্বংস করা হয়।’

এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু পাকিস্তানি ও তাদের দোসররা সে সময় গোটা দেশটাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে গেছে। এলাকায় রাস্তা ঘাট বাড়ি ঘর কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। স্বাধীন হওয়ার পর দেশে জীবন যাপনের জন্য বহু কষ্ট শিকার করতে হয়। নিজের কোনো স্থায়ী জায়গা না থাকায় অন্যের জায়গায় এখনও ঘর করে থাকতে হচ্ছে। পরিবার পরিজনের অন্য জোগার করতে ঠেলাগাড়ি ও চলাতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। বয়স হওয়ায় এখন কাজকর্ম করতে পারছি না। বর্তমানে সম্মানি ভাতা পাচ্ছি এবং ছেলের সামান্য আয় দিয়ে চলছে এক প্রকার জীবন। সরকার যদি সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি না করতেন তাহলে চলা খুবই কষ্ট হত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায় নীতি আদর্শের একটি সোনার বাংলা দেখতে চাই। লাখো শহীদের রক্তের বিনীময়ে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। দেশ যদি ভালোভাবে চলে তবেই ভাল লাগে। আমরা যা অর্জন করেছি পরবর্তী প্রজন্মরা তা সঠিক ভাবে ধরে রাখবে এবং এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটা আমার বিশ্বাস।’

মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত