সাধারণ মানুষেরা আগে যাবেন, তারপর ভিআইপিরা : মমতা

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রজন্ম ৭১

প্রকাশিত : ১১:৪৮ এএম, ৯ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার

পুরোনো ছবি

পুরোনো ছবি

সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা আগে; তারপরই যাবেন ভিআইপিরা- এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শহরে যাওয়ার পথে পুলিশকে সতর্ক করে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, 'প্রয়োজনে আমি দাঁড়াব। আমার জন্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা হলে আমি মানব না।' চলাচলের পথে পুলিশি নিরাপত্তায় ‘বাড়াবাড়ি’ দেখে একাধিক বার গাড়ি থেকে নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন মমতা চেন্নাই থেকে কলকাতায় ফেরেন। বিমানবন্দর থেকে শহরে ঢোকার পরে প্রথমে তেঘরিয়া মোড়ের কাছে তার নজরে পড়ে, সার্ভিস রোডে অনেক গাড়ি সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে। তখনই গাড়ি থেকে নেমে ট্রাফিক কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন, তিনি যাচ্ছেন বলেই কি রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি দাঁড় করানো হয়েছে?

সূত্রের খবর, এর পর তিনি ঘটনাস্থলে হাজির পুলিশ কর্তাদের নির্দেশ দেন, আগে সাধারণ মানুষ, পরে ভিআইপি।  প্রায় ১০ মিনিট মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে অন্য গাড়ির যাতায়াত চালু  করে দেন। তাকে রাস্তায় দেখে ভিড় বাড়ে। তাদের সঙ্গে কথা বলে ফের রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পর তাপুরিয়াঘাটাতেও ট্রাফিক আটকানো হয়েছে দেখে রাস্তায় নেমে পুলিশ কর্তাদের নির্দেশ দেন মমতা।  পাইলট নিয়ে, হুটার বাজিয়ে একাধিক গাড়ির কনভয় নিয়ে যাতায়াত মমতার পছন্দের নয়। কিন্তু সাধারণের মতো চলতে গিয়ে তার কনভয়ের কাছে অনেক সময়েই গাড়ি চলে আসে। ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা।

মুখ্যমন্ত্রীর অবশ্য স্পষ্ট নির্দেশ, প্রয়োজনে তিনি কিংবা অন্য ভিআইপি-রা  অপেক্ষা করবেন। ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতেই হবে। সাধারণ মানুষের যেন অসুবিধা না হয়। কিছু দিন আগে উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়ার সময়েও জেলা পুলিশ কর্তাদের সতর্ক করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।   

তবে মুখ্যমন্ত্রীর চলাচল অনাড়ম্বর হলেও তারই দলের কতিপয় নেতা এমনকি, নবীনদের কেউ কেউ রাস্তা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় নিয়ে চলাচল করেন এবং তার জেরে অন্য সব গাড়ি আটকে থাকে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। 

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর ব্রিজ ধরে যাওয়ার সময়ে ব্রিজের নীচে অপরিচ্ছন্ন জায়গাও মুখ্যমন্ত্রীর নজরে পড়ে। সেখানে আগে সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছিল। সে বিষয়ে পুলিশকে তিনি সতর্ক করে ব্যবস্থা নিতে বলেন।